ইশরাত জামান

ডায়াবেটিসে খাবার সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা আছে। যেমন— বেশি মিষ্টি বা চিনি খেলে ডায়াবেটিস হয়। আসলে বেশি মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস হয় না। মিষ্টি শর্করা জাতীয় খাবার। ভাত, রুটি, এগুলো শর্করা জাতীয় খাবার। পেটের ভেতরে অবস্থিত অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন ‘ইনসুলিন’ রক্তের শর্করা বা গ্লুকোজ থেকে শরীরে শক্তি উৎপন্ন করে। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ না হলে বা কম হলে রক্তে গ্লুকোজ বা চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়। এ অবস্থাই ডায়াবেটিস। কোন কারণে ইনসুলিন কাজ করতে না পারলেও ডায়াবেটিস হয়। সুতরাং বেশি বেশি মিষ্টি খেলেই যে ডায়াবেটিস হবে, তা ঠিক নয়। তবে একাশে বেশি মিষ্টি খেলে শরীরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি হতে পারে এবং অগ্ন্যাশয়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। তখন এটি সমস্যা। তাছাড়া বেশি মিষ্টি মানে বেশি ক্যালরি গ্রহণ। সেটিকে ঠিকমতো ইউটিলিটি না বাড়ালে বা কমালে যে ক্যালরি শরীরে জমা হবে এবং শরীর মোটা হয়ে যাবে। তাতে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাবে।

ডায়াবেটিক খাবার নির্বাচনে অনেক নিয়মকানুন মানতে হয়। আসলে ১০ থেকে ১৫টি নিয়ম মানতে হয় না। আমার মতে পরিমিত ও দৈনন্দিন ক্যালরির চাহিদা মিটিয়ে রোজা রাখা সবচেয়ে ভালো। সাধারণ মানুষের খাবারের মতো স্বাভাবিক খাবারই খাবেন। তা হতে হবে শরীরের ক্যালরির চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত এবং সুষম। যাতে যেসব শর্করা জাতীয় খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ে, এমন শর্করা বা পলি স্যাকারাইড শর্করা ও আঁশ এবং সবজি থাকবে বেশি, আর তেল-চর্বি থাকবে কম। যেমন ফল পর্যাপ্ত পরিমাণে বেশি, যে কোনো ফল খেতে হলে পরিমিত। বাজার হতে হবে এমন যাতে ব্যায়াম বা প্রয়োজন অনুযায়ী শর্করা বেশি পরিমাণে থাকে।

ডায়াবেটিস হলে পছন্দের সব খাবার বন্ধ করে দিতে হবে এমনটা নয়। খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে এবং অবশ্যই পরিমিত উপায়ে। হয়তো পরিমাণটি একটু কমাতে হতে পারে। ডায়াবেটিস হলে সব সময় শর্করা জাতীয় খাবার থাকতেই হবে। এ খাবার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং একটু বিশেষ করে দেখে খেতে হবে। যেসব শর্করা রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা তাড়াতাড়ি বাড়ায়, সেগুলো কম খেতে হবে। যেমন— চিনি, মিষ্টি, বেশি ছাঁটা চালের ভাত, ময়দার রুটি। যেসব শর্করা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ায়, সেগুলো খাওয়া যাবে বেশি। যেমন— লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, সবজি, খোসা শসা। ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য আমিষ জাতীয় খাবার বাড়াতে হবে। আমিষ হতে হবে পরিমিত। মোট ক্যালরির ১৫% থেকে ২০% যেন আসে আমিষ থেকে। বেশি আমিষ ভালো নয়। আমিষের সঙ্গে চর্বি যুক্ত থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ডায়াবেটিস হলে ওষুধের মাত্রা কম বেশি করে বা না খেয়ে মিষ্টি খাওয়া বা বেশি খাওয়া যাবে না। ইনসুলিন বা অন্য ওষুধের মাত্রাটি একটু কমিয়ে দিয়ে একটু বেশি খেয়ে নিলে বিপত্তি ঘটতে পারে। বাড়তি ক্যালরির কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু নিজের খাবার হতে হবে পরিমিত এবং সুষম। ডায়াবেটিসে কৃত্রিম মিষ্টি ক্ষতিকারক নয়। তবে অবশ্যই কম।

যে খাবার খেয়ে ডায়াবেটিস রোগী হরমোনের পরামর্শ মতো ব্যায়ামের মাধ্যমে জমানো ক্যালরি ও গ্লুকোজ কমাতে পারেন এবং রক্তিক মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পারবেন এবং উপযুক্ত পরিমাণে ক্যালরি পাবেন সেটিই হলো আসল ‘ডায়াবেটিক খাবার’। সেটি থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে রক্তের তেল-চর্বির মাত্রা।