ইসরাত জাহান, পুষ্টিবিদ
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেকের ক্ষেত্রে এই রোগ খুব সহজে ধরা পড়ে না। আবার ধরা পড়ার পর সঠিক চিকিৎসা না হলে বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তা অনেক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকাল শুধু বয়স্ক মানুষই নন, যেকোনো বয়সী মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা দেখা যায়। সাধারণত বেশি ওজন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ঘাটতির কারণে এমনটা হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ নিয়মিত সেবনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।
তাই বলে খাদ্যাভ্যাসে যে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে, তা কিন্তু নয়। ছোট কিছু পরিবর্তনেই উচ্চ রক্তচাপের নেতিবাচক প্রভাব থেকে অনেকটাই পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
কী কী খাবেন (প্রয়োজনীয় খাবার)
প্রতিদিন তাজা ফল ও শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে:
* ফল: লেবু, জাম্বুরা, পেয়ারা, আমলকী, আপেল, কমলা, মাল্টা, ডালিম, কলা, নাশপাতি, পেঁপে ইত্যাদি।
* শাকসবজি: পালংশাক, কলমিশাক, মুলাশাক, পাটশাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, শসা, মুলা, লাউ, মটরশুঁটি, ঢেঁড়স, বেগুন, কুমড়া ইত্যাদি।
* পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: ডাবের পানি, কলা এবং টমেটোতে প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
* অন্যান্য: বাদাম, শালগম, তিসি, ডার্ক চকলেট ও কালিজিরা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ভালো কাজ করে।
কী কী এড়িয়ে চলবেন (বর্জনীয় খাবার)
উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে নিচের খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে:
* লবণ: অতিরিক্ত লবণ ও বেশি লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। টেস্টিং সল্ট, বিট লবণ ও অন্যান্য মুখরোচক লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
* সয়া সস: সয়া সস পরিহার করতে হবে।
* চর্বিযুক্ত খাবার: অতিরিক্ত মাখন এবং তৈলাক্ত খাবার যেমন—কেক, পেস্ট্রি, পরোটা, লুচি ও আইসক্রিম খাওয়া যাবে না।
* কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার: ডিমের কুসুম, খাসির মাংস, গরুর মাংস ইত্যাদি কোলেস্টেরল বাড়ায়, তাই এগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
* আচার ও চাটনি: চাটনি, ভর্তা ও আচারে প্রচুর তেল ও লবণ ব্যবহার করা হয়, যা উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য খুবই ক্ষতিকর।